স্টিভ জবস -এর জিরো থেকে হিরো হওয়ার গল্প

টিবিটি ডেস্ক
টিবিটি ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:২৬ এএম
স্টিভ জবস

স্টিভ জবস, নামটি হয়ত আপনার কাছে নতুন নয়। এই নামেই একডাকে সবাই চেনে যায়, বিশ্ববিখ্যাত Apple কোম্পানিকে। কিন্তু জানেন কি, স্টিভ জবস-এর লড়াই করার কাহিনী? সফলতা সবাই দেখে, কিন্তু সেই সফলতার আড়ালে থাকা, ইতিহাসের পাণ্ডুলিপি কেউই ঘেঁটে দেখে না। 


স্টিভ জবস-এর জীবনটাই শুরু হয়েছিল, সংঘর্ষ দিয়ে। যেদিন থেকে তিনি জন্মেছিলেন সেদিন থেকেই তিনি ছিলেন তার মায়ের মাথা ব্যাথার কারণ। কারণ তার মা ছিলেন একজন কলেজ ছাত্রী। উঁহু শুধু কলেজ ছাত্রীই নন, অবিবাহিত কলেজ ছাত্রী! কি এবার অবাক হলেন তো?


হুম আপনি যেটা ভাবছেন, ঠিক সেটাই হয়েছে। তাই তার মা স্টিভ জবসকে একটি ভালো পরিবারে দত্তক দিয়ে, ঝামেলা মুক্ত হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যাকে, দত্তক দিতে চেয়েছিলেন, তিনি শুধু এটা বলে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যে, তারা একজন ছেলেকে দত্তক নিবেন না, তাদের প্রয়োজন একজন মেয়ে। এরপর আবার খোঁজ শুরু হল। অবশেষে তার মা, ক্যালিফোর্নিয়ার Paul এবং Kaalra নামে এক দম্পতির কাছে স্টিভকে দত্তক দেন।


১৯৭৩ সালে তাকে একজন টেকনিশিয়ানের রূপে দেখা যায়। আবার কিছুদিন পড়ে তিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে তার কয়েকজন কলেজ বন্ধুকে নিয়ে চলে আসেন ভারতে। কিন্তু তিনি যে সাধুটির সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন, তিনি স্টিভ আসার এক বছর আগেই দেহ ত্যাগ করেন। 


তাই স্টিভের আর সেই সাধুর সঙ্গে দেখা করা হয়ে উঠল না। এরপর তিনি আরেকজন সাধুর সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। আর এই কারণেই তিনি তার জীবনের বেশ কিছুটা সময়, ভারতের উত্তর প্রদেশ, হিমাচল, দিল্লীতে কাটিয়েছেন।



১৯৭৬ সালে স্টিভ ওয়জনিয়াক, Apple-1 Computer তৈরি করেন। এরপর তিনি জবস কে তার এই কাজটি দেখান। জবস, ওয়জনিয়াক কে, এই কম্পিউটারটি বিক্রি করার পরামর্শ দেন। এরপর দুইজন মিলে জবস-এর বাবার গ্যারেজেই, ব্যাবসায়িক রূপে কম্পিউটার তৈরির কাজে লেগে পড়েন। সেখানে তারা কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম- MAC তৈরি করেন। 


আর এই অপারেটিং সিস্টেমটি বিক্রি করার জন্য তারা একটি কম্পিউটার বানানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, টাকার অভাব। কিন্তু তাদের এই সমস্যা মাইক নামে এক বন্ধু সমাধান করে দেয়, এবং সাথে সাথে সেই কোম্পানিরও একজন অন্যতম যোগদানকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করতে থাকেন।


এরপর জবস কম্পিউটার তৈরির কাজে লেগে পড়েন। কিন্তু জবসের কাজ কোম্পানির অন্যান্যদের পছন্দ হয়নি। এরপর স্টিভ জবসের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ আসতে থাকে। এরপর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কোম্পানি তার জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে। ধীরে ধীরে কোম্পানি লোকসানে চলতে থাকে এবং একটা সময় পড় কোম্পানির অনেক টাকা ঋণ হয়ে যায়। কোম্পানির বোর্ড অফ ডাইরেক্টরের মিটিং-এ  স্টিভকে এর জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়, এবং তাকে কোম্পানি থেকে বেড় করে দেওয়া হয়। আর এই সময়টিই ছিল তার জীবনের সবথেকে দুঃখের সময়।



এরপর শুরু তার জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, আর এর পড়ের গল্পটা খুবই পরিষ্কার। যার ফল আজকের অ্যাপেল। তার হাত ধরেই আজ অ্যাপেল বিশ্বের দরবারে নিজের আধিপত্য স্থাপন করেছে।


২০০৭ সালের শেষে স্টিভ জবস অ্যাপলকে ৩.৪৯ বিলিয়ন ডলারের নিট আয় এবং ১৭৩ বিলিয়ন ডলারের বাজার মূল্য অর্জনে সহায়তা করেন। কিন্তু, ২০১১ সালের অক্টোবরে মৃত্যুর সময় অ্যাপলের বাজার মূল্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হন।


স্টিভ জবস যে লক্ষ্য নিয়ে অ্যাপল শুরু করেছিলেন তাতে তিনি অটল ছিলেন। অ্যাপল তৈরির সময় তার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল 'প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বকে পরিবর্তন করা'। নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন করে তিনি ঠিক তাই করেছিলেন।


স্টিভ জবসের সফলতা থেকে বোঝা যায়, সফল হতে হলে লক্ষ্যে অটুট থাকতে হবে। কখনো সেখান থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। লেগে থাকলে সফলতা আসবেই। তিনি বলেছিলেন, 'কেউ যদি নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, তাহলে ব্যর্থ হতে হয় না, তাই হাল ছেড়ে দিও না।'



স্টিভ জবস এর উক্তিঃ-


১. এসো, আগামীতে কি হবে সেই চিন্তা না করে, আগামীতে নতুন কি করা যায়, সেই চিন্তা করি।


২. আপনার সময় সীমিত, তাই অপরের জন্য নিজের জীবনকে অতিবাহিত করবেন না।



৩. ফালতু ফালতু চিন্তাতে নিজেকে জড়াবেন না। আপনার জীবনকে অপরের ইচ্ছে অনুযায়ী চালাবেন না। অপরের বিচার-ধারার মধ্যে নিজেকে বিসর্জিত করবেন না। নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগান।


৪. আপনাকে কি করতে হবে না, তা ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ, আপনাকে কি করতে হবে সেটা যতটা গুরুত্বপূর্ণ। 


৫. সবসময় এই কথাটা মনে রাখবেন- আমি অতিশীঘ্রই মারা যাব। আর এই সময় টুকুতেই আমাকে আমার জীবনের সবথেকে বড় নির্ণয় নিতে হবে। তাই সর্বদা নিজের কথা শুনুন, অপরের কথায় গা ভাসাবেন না।