সঞ্চয়পত্র ভেঙে খরচ মেটাচ্ছে মানুষ

টিবিটি ডেস্ক
টিবিটি রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৪ ০২:২৬ এএম

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম পাগলা ঘোড়ার গতিতে বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে স্বল্প ও মধ্যআয়ের মানুষ। ব্যয়ের সঙ্গে আয় না বাড়ায় জীবিকা নির্বাহ করতে একদিকে জীবনযাত্রার মানে লাগাম টানতে হয়েছে, অন্যদিকে হাত পড়েছে সঞ্চয়ে। 

অনেকেই এখন সঞ্চয় ভেঙে সংসার খরচ মেটাচ্ছেন। এতে বর্তমান সঞ্চয়ের স্থিতি যেমন কমে যাচ্ছে, তেমনি নতুন সঞ্চয়ের গতিও হ্রাস পাচ্ছে। ফলে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সঞ্চয়ের স্থিতি কমেছে।

মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষ সঞ্চয়পত্র ভেঙে খরচ মেটাচ্ছে। এর ফলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমেছে ১ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকার। আর আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৯ হাজার ২৫১ কোটি টাকা। এতে করে এ মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রে নতুন করে বিনিয়োগ করছেন না গ্রাহক।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের মানুষ এখন অনেকটাই সঞ্চয় বিমুখ। আগের জমানো ডিপোজিট ভেঙে সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন তারা।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক স্মার্ট (সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অভ ট্রেজারি বিল) রেট ঘোষণা করার পর থেকে ক্রমাগত ব্যাংকঋণ ও আমানতের সুদহার বাড়ছে। ফলে অন্যান্য খাত থেকে টাকা ব্যাংকে ঢুকছে। তাই ব্যাংকের আমানত বাড়লেও বিনিয়োগ কমছে সঞ্চয়পত্রে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৪৯ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার। একই সময়ে এ খাতে সরকারকে সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৫৬ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। 

অর্থাৎ ৭ মাসে সরকার এই খাত থেকে কোনো ঋণ পায়নি। উল্টো অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হয়েছে ৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।