সেমিনারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী

অভিভাবক এবং শিক্ষকেরা পুরনো পদ্ধতিতে ফিরতে চাচ্ছেন

টিবিটি ডেস্ক
টিবিটি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:২২ পিএম

প্রতিদিন দেড়শ-দুইশ শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলছেন জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী জানিয়েছেন, সবচেয়ে বড় ফাউন্ডিংস হচ্ছে, আমাদের অভিভাবক এবং শিক্ষকেরা রেডি (প্রস্তুত) না। তারা চাচ্ছেন, পুরনো পদ্ধতির পরীক্ষা এবং পুরনো ধাচে পড়ানো।

রোববার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আইডিইবি ভবনে ‘প্রাথমিক শিক্ষার সংস্কার উদ্যোগ: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি এ কে এম হামিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান বক্তব্য দেন। সেমিনারের প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন করিগরি শিক্ষা বোর্ডের স্পেশালিস্ট ড. মো. শাহ আলম মজুমদার।

নতুন কারিকুলাম নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি নতুন। এখন সবার কাছ থেকে শুনছি। প্রতিদিন প্রায় দেড়শ-দুইশ শিক্ষকের সাথে কথা বলছি, ওনাদের সমস্যাগুলো শুনছি। অভিভাবকদের সাথে কথা বলছি। তাদের চাওয়া-পাওয়ার জায়গাগুলো শুনছি। যে জায়গায়টায় যারা কাজ করেন তারা কিন্তু বোঝেন কী করে দিলে সহজ হবে। আমাদের সরকারের কাজটা আসলে এটাই।

রুমানা আলী বলেন, আমরা চাচ্ছি একটা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বো, সেটার যে সেটআপ দরকার সেই সেটআপটা ওখান থেকেই শুরু হবে। তাদের চাওয়া পাওয়া যদি আমরা ফুলফিল করতে, তারা যদি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারে পড়িয়ে তাহলে কিন্তু এগোবে।

‘সবচেয়ে বড় ফাউন্ডিংস হচ্ছে, আমাদের অভিভাবক এবং শিক্ষকেরা কিন্তু রেডি না। তারা চাচ্ছেন পুরনো পদ্ধতির পরীক্ষা এবং পুরনো ধাচে পড়ানো। তাদের আসলে অনেক বেশি ট্রেনিং এবং মোটিভেশন দরকার। মোটিভেশনাল কাজগুলো যদি আমরা না করতে পারি, অভিভাবকদের যদি না বোঝাতে পারি। অভিভাবকেরা ছিটকে নিয়ে যাচ্ছেন কিন্ডার গার্টেনে। আবার কিছু অভিভাবক নিয়ে যাচ্ছেন মাদরাসা লেভেলে। এ জায়গা থেকে আমাদের কাজ চলছে। অনেক কাজ হয়েছে। ’

পাঠ্যপুস্তক নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বই যারা তৈরি করছেন তারা কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞ। তারা নিশ্চয়ই দেখে বুঝে শুনে করছেন এবং প্রাইমারি এডুকেশন, আমাদের মন্ত্রণালয় কিন্তু বইটা তৈরি করে না। আমরা কিন্তু ছাপাইও না। এটা মাধ্যমিক (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) থেকে এনসিটিবি যারা আছে তারা করে। এসব জায়গায় অনেকগুলো জায়গা আছে। আমরা কাজ করি, ওনারাও কাজ করে। 

কিন্তু কাজটা হয়ে আসে ওনাদের মাধ্যম হয়ে। এগুলো আমরা চেষ্টা করব, সামনের দিকে আমাদের চেষ্টা থাকবে আমাদের কাজগুলো যাতে আমরা করতে পারি। আমাদের ফিডব্যাকগুলো যাতে আমরা নিতে পারি, আমাদের ফিডব্যাক দিতে পারি। তাদের কাছ থেকে, আমাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে এগুলো নিতে পারি। ’

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের যে প্রক্রিয়া আছে তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ওঠে, অনেকে বুঝে না বুঝে বলেন বা কেন বলেন বুঝি না। কারণ এত স্বচ্ছতা থাকে, যেটা না বললেই না। যেগুলো নিয়ে প্যারা তৈরি হয়, সে প্যারা কিন্তু আমাদের এখানে নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেক স্বচ্ছতার সাথে হচ্ছে।

অনেক জায়গায় পরীক্ষাই তো বুয়েট থেকে করা হয়। সেখান থেকে করা হচ্ছে। আমাদের সাথে আর্মি প্রিন্টিংয়ে যারা কাজ করে তারা কাজ করছে। তাদের কিন্তু তিন দিন একটি ঘরের ভেতরে আটকিয়ে রাখা হয়। প্রশ্ন আউট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা বা ব্যবস্থা নাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে ছড়ানো হয় যে, বিশ্বাস করে।