জাপানে অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে ৬৩ শতাংশ মানুষ

টিবিটি ডেস্ক
টিবিটি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২৪ ০১:২১ এএম

ক্রমাগত টানাপড়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জাপানের অর্থনীতি। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ও বেতন বৃদ্ধির সমন্বয়হীনতা জনপরিসরে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এর মাঝে মন্দার কবলে পড়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি থেকে এক ধাপ ছিটকে পড়েছে দেশটি।

সামগ্রিক এ পরিস্থিতি দেশটির জনগণের মনস্তত্ত্বে নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি করেছে, আস্থাহীনতায় ভুগছে তারা। সরকারি এক জরিপে দেখা যায়, রেকর্ড ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে তারা আর্থিকভাবে নিরাপদ বোধ করেছেন না। ভবিষ্যৎ নিয়েও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে তাদের। খবর আনাদোলু।

দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে এক বছরের আগের তুলনায় আর্থিক অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে বলে জানিয়েছে এ জরিপ। জাপানের মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয় পরিচালিত জরিপ অনুসারে, এক বছর আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্টে বেড়েছে।

অর্থনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ এ মাত্রায় জন অসন্তোষ দেখা গেছে ২০০৮ সালে। এর পর থেকে এবারই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরিচালিত এ জরিপে অংশ নেয় ১৮ বা তার বেশি বয়সী পূর্ণকালীন কর্মী হিসেবে কাজ করে এমন প্রায় তিন হাজার মানুষ। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশের বেশি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অর্থাৎ, অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি।

কয়েক দশকে জাপানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমেই কমে আসছে। এর অনেক কারণের একটি হলো সন্তান জন্ম ও প্রতিপালন দিনদিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। জরিপেও সে চিত্র প্রতিফলিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু লালনপালনে অসুবিধা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। ২৮ দশমিক ২ শতাংশ বলেছেন, বিদ্যমান আর্থিক পরিস্থিতিতে তরুণদের জন্য স্বাধীন জীবনযাপন কঠিন।

অন্যদিকে ২৬ দশমিক ২ শতাংশের মতে, নারীদের জন্য সমাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ কাজের পরিবেশ নিয়ে অসন্তুষ্ট।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে জরিপের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ মন্তব্য করেছেন। ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতাদের মতে, মূল্যস্ফীতি জাপানকে নেতিবাচক দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

২০২৩ সালে জাপানের মূল ভোক্তা মূল্য বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা ৪১ বছরের মধ্যে দ্রুততম বৃদ্ধি। বিপরীতে টানা দ্বিতীয় বছরে প্রকৃত মজুরি কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। সরকারি তথ্যানুযায়ী, বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সমন্বয় হয়নি।

নভেম্বরে পৃথক এক বেসরকারি জরিপে দেখা গেছে, দ্বৈত আয় আছে এমন পরিবারের ৪৬ শতাংশেরও বেশি নিয়মিত কর্মী আর্থিকভাবে টানাপড়নে রয়েছেন।

জরিপে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যেমন ২৫ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, চিকিৎসা ও কল্যাণ পরিষেবাগুলো আরো ভালো দিকে যাচ্ছে। এছাড়া দুর্যোগ প্রতিরোধ নিয়ে ২৪ দশমিক ১ ও জননিরাপত্তা নিয়ে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

কর্মসংস্থানবিষয়ক সংস্থা মাইনাভি করপোরেশনের জরিপ অনুসারে, বার্ষিক ৭১ লাখ ২০ হাজার ইয়েন (৪৭ হাজার ডলার) পারিবারিক আয়কে আর্থিক চাপ হিসেবে দেখা হয়। তবে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার আয় চাপের মধ্যে পড়ে না।

গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে জাপান সরকার জানিয়েছে, টানা দুই প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ায় দেশটি মন্দার কবলে পড়েছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জাপানের জিডিপি শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর আগের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অর্থনীতি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়। 

সাম্প্রতিককালে জাপানে জ্বালানি তেল ও খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বেড়েছে। ফলে দেশটির ভোক্তারা কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এরই প্রভাব পড়েছে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

এদিকে মাসে জাপানের আর্থিক পরিসরে দুটো পরিবর্তন এসেছে। মার্চের মাঝামাঝিতে দেশটির শ্রমিক ইউনিয়ন জানায়, বড় কোম্পানিগুলো বেতন বাড়াতে রাজি হয়েছে, যা ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ১৭ বছর পর নীতি সুদহার বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।