ইউক্রেনে আরও ৩ বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে রাশিয়া

টিবিটি ডেস্ক
টিবিটি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৪৫ পিএম

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ আরও দুই বা তিন বছর পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারবে রাশিয়া। তবে তাদের সংখ্যার জন্য গুণগত মানকে বিসর্জন দিতে হবে। কারণ নিজেদের অস্ত্র ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে মজুতে থাকা পুরনো ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)-এর প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

আইআইএসএস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই বছর আগে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর পূর্বে রাশিয়ার যত ট্যাংক ছিল, সে তুলনায় বেশি হারিয়েছে তারা। কিন্তু এই ক্ষয়ক্ষতির কারণে শিগগরিই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। 

থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রতিমাসে গড়ে শত শত সাঁজোয়া যান ও কামান হারালেও রাশিয়া নিজেদের অস্ত্রের সংখ্যা মোটামুটি বজায় রাখতে পেরেছে পুরনো ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে, উৎপাদন বাড়িয়ে এবং বিদেশ থেকে ক্রয় করে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ইউক্রেনে আরও দুই বা তিন বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে রাশিয়া, হয়ত আরও বেশি সময়ও পারবে। 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছর পূর্তির আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। দুই বছর পরও মস্কোর সেনারা ১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রণক্ষেত্রে লড়াই করছে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। ইউক্রেনের সাবেক সেনাপ্রধান গত বছর রণক্ষেত্রের পরিস্থিতিকে অচলাবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। 

এদিকে, গত বছর জুনে শুরু করা পাল্টা আক্রমণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থতার পর ইউক্রেন এখন অনেক বেশি রক্ষণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে। একই সময়ে তারা সেনা ঘাটতিতে পড়েছে এবং পশ্চিমাদের দেওয়া সহযোগিতার প্রবাহও কমে আসছে ধীরে ধীরে।

কিছু দিন আগে মার্কিন সিনেটে ইউক্রেনের জন্য একটি সহযোগিতা প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাবের আওতায় ইউক্রেনকে ৫৬ বিলিয়ন ইউরো সহযোগিতা করা হবে। 

তবে বিলটি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে পাস হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিলটি ভোটে উত্থাপনের বিরোধিতা তিনি করবেন।

পৃথক এক বার্ষিক সামরিক প্রতিবেদনে আইআইএসএস বলেছে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ব্যয় ৯ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠানটি চলমান সময় ‘অস্থিতিশীলতার যুগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। 

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়েছে। ন্যাটোকে শক্তিশালী করতেও ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু এই অতিরিক্ত অর্থায়ন বিগত কয়েক বছর ধরে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের ঘাটতি পূরণ করছে মাত্র।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্চ মাসের মধ্যে ইউক্রেনকে ১০ লাখ ১৫৫ মিলিমিটার গোলা সরবরাহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল তা পূরণে ব্যর্থ হবে। 

আইআইএসএস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পরও রাশিয়ার অর্থনীতি টিকে আছে এবং ২০২৪ সালের প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় প্রতিরক্ষায় ৬০ শতাংশ বেশি বরাদ্দ করেছে রাশিয়া।

দ্য রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট নামের আরেকটি থিংক ট্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য ও সক্ষমতা বদলে যাচ্ছে। ইউক্রেনে তিনটি ধাপে নিজেদের লক্ষ্য হাসিলের পথে এগোচ্ছে। 

প্রথমত, তারা ইউক্রেনীয় রণক্ষেত্রে চাপ অব্যাহত রেখে কিয়েভের অস্ত্র ও সেনা ঘাটতি তৈরি করতে চায়। পাশাপাশি, রাশিয়ার স্পেশাল সার্ভিসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতার মনোভাব বদলে দেওয়ার জন্য, যাতে করে সামরিক সহযোগিতা বন্ধ হয়। তৃতীয় ধাপে, ইউক্রেনের অস্ত্রের মজুত কমে আসলে রাশিয়া রণক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জনের জন্য নতুন আক্রমণ অভিযান পরিচালনা করবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে ইউক্রেনে জয় অর্জনের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। বলা হয়েছে, আক্রমণ অভিযানের মান উন্নত করতে অক্ষমতার কারণে ২০২৫ সালে রাশিয়ার জয়ের সম্ভাবনা যদি ম্লান হয় তাহলে ২০২৬ সালে কিয়েভকে আত্মসমর্থনে বাধ্য করতে হিমশিম খেতে হবে রুশ বাহিনীকে।

সূত্র: সিএনএন