বিশ্বে যৌনাঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়ে বেঁচে আছেন ২৩ কোটি নারী

টিবিটি ডেস্ক
এএফপি
প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৪ ০২:০২ এএম

বিভিন্ন কারণে যৌনাঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়েও বেঁচে আছেন—বিশ্বে এমন নারীর সংখ্যা ২৩ কোটির বেশি। কিছু দেশে এ চর্চা রোধে অগ্রগতি হলেও ২০১৬ সালের পর অঙ্গচ্ছেদের শিকার নারীর সংখ্যা ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

আজ ৮ মার্চ (শুক্রবার) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল ইউনিসেফের প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।  

প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ক্লডিয়া কপা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি খারাপ খবর। এ সংখ্যা বিরাট; যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।’

যৌনাঙ্গচ্ছেদের কারণে বড় ধরনের রক্তপাত বা সংক্রমণ হতে পারে। এ ছাড়া নারীর উর্বরতা সমস্যা, সন্তান জন্মদানে জটিলতা, মৃত সন্তান প্রসব ও যন্ত্রণাদায়ক শারীরিক সম্পর্কের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে এফজিএম।

নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ এফজিএম (ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন) নামে পরিচিত। ক্লিটরিস (ভগাঙ্কুর) ও লেবিয়া মাইনরার আংশিক বা পূর্ণ অপসারণ এবং যোনিপথ সংকুচিত করতে সেলাই—এ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

যৌনাঙ্গচ্ছেদের কারণে বড় ধরনের রক্তপাত বা সংক্রমণ হতে পারে। এ ছাড়া নারীর উর্বরতা সমস্যা, সন্তান জন্মদানে জটিলতা, মৃত সন্তান প্রসব ও যন্ত্রণাদায়ক শারীরিক সম্পর্কের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে এফজিএম।

এফজিএমের শিকার হয়ে বেঁচে থাকা নারীর সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আফ্রিকায়। এ সংখ্যা ১৪ কোটি ৪০ লাখ। এরপর আছে যথাক্রমে এশিয়া (৮ কোটি) ও মধ্যপ্রাচ্য (৬০ লাখ)। অঙ্গচ্ছেদের চর্চা সাধারণ ঘটনা—এমন ৩১টি দেশের ওপর জরিপ করে এ তথ্য জানা গেছে।

সার্বিকভাবে নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ হিসেবে জনসংখ্যার বৃদ্ধিকে মনে করা হচ্ছে। তবে আফ্রিকার বাইরে অন্যান্য স্থানে অঙ্গচ্ছেদের প্রবণতা কমার ক্ষেত্রে উন্নতি লক্ষ করা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।  

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিয়েরা লিওনে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণী যাঁরা যৌনাঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়ে থাকেন, তাঁদের সংখ্যা গত ৩০ বছরে ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইথিওপিয়া, বুরকিনা ফাসো ও কেনিয়াতেও যৌনাঙ্গচ্ছেদের প্রবণতা বেশ খানিকটা কমার বিষয় লক্ষ করা গেছে।  

তবে সোমালিয়ায় ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের ৯৯ শতাংশ, গিনির ৯৫ শতাংশ, জিবুতির ৯০ শতাংশ ও মালির ৮৯ শতাংশ যৌনাঙ্গচ্ছেদের শিকার হন।

নিঃসন্দেহে এটি খারাপ খবর। এ সংখ্যা বিরাট; যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ক্যাথরিন রুসেল বলেন, ‘ক্ষতিকর এ প্রবণতা অবসানে আমাদের প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে।’

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অ্যাজেন্ডা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষতিকর এ চর্চা দূর করতে অগ্রগতির বর্তমান স্তর ২৭ গুণ বৃদ্ধি করতে হবে।

‘তবে এ প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হলেও মনে রাখতে হবে, এফজিএম শত শত বছর ধরে চলে আসছে। তাই এর সঙ্গে যুক্ত সামাজিক রীতিনীতি ও চর্চায় পরিবর্তন আনতে সময় লাগবে’, বলেন ক্লডিয়া কপা।

এফজিএম নিষিদ্ধকরণে আইন প্রণয়নে চাপ দিয়ে আসছে ইউনিসেফ। অবশ্য এটি দূর করতে নারীশিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পুরুষের যে ভূমিকা তাতে, কিছু দেশে এ প্রবণতা চালিয়ে যাওয়াকে সমর্থন করেন তাঁরা। অন্যদিকে এসব দেশে কিশোরী ও নারীরা বহু বছরের পুরোনো এ চর্চা পরিত্যাগে আগ্রহী নন।

ক্লডিয়া বলেন, ‘পুরুষেরা এ বিষয়ে এখনো নীরব। এ নীরবতা এমন অভিব্যক্তির জন্ম দেয় যে এ চর্চার সক্রিয় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই এ প্রবণতার বিরুদ্ধে সবারই অবস্থান নিতে হবে।’বিভিন্ন কারণে যৌনাঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়েও বেঁচে আছেন—বিশ্বে এমন নারীর সংখ্যা ২৩ কোটির বেশি। কিছু দেশে এ চর্চা রোধে অগ্রগতি হলেও ২০১৬ সালের পর অঙ্গচ্ছেদের শিকার নারীর সংখ্যা ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

আজ ৮ মার্চ (শুক্রবার) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল ইউনিসেফের প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।  

প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ক্লডিয়া কপা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি খারাপ খবর। এ সংখ্যা বিরাট; যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।’

যৌনাঙ্গচ্ছেদের কারণে বড় ধরনের রক্তপাত বা সংক্রমণ হতে পারে। এ ছাড়া নারীর উর্বরতা সমস্যা, সন্তান জন্মদানে জটিলতা, মৃত সন্তান প্রসব ও যন্ত্রণাদায়ক শারীরিক সম্পর্কের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে এফজিএম।

নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ এফজিএম (ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন) নামে পরিচিত। ক্লিটরিস (ভগাঙ্কুর) ও লেবিয়া মাইনরার আংশিক বা পূর্ণ অপসারণ এবং যোনিপথ সংকুচিত করতে সেলাই—এ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

যৌনাঙ্গচ্ছেদের কারণে বড় ধরনের রক্তপাত বা সংক্রমণ হতে পারে। এ ছাড়া নারীর উর্বরতা সমস্যা, সন্তান জন্মদানে জটিলতা, মৃত সন্তান প্রসব ও যন্ত্রণাদায়ক শারীরিক সম্পর্কের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে এফজিএম।

এফজিএমের শিকার হয়ে বেঁচে থাকা নারীর সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আফ্রিকায়। এ সংখ্যা ১৪ কোটি ৪০ লাখ। এরপর আছে যথাক্রমে এশিয়া (৮ কোটি) ও মধ্যপ্রাচ্য (৬০ লাখ)। অঙ্গচ্ছেদের চর্চা সাধারণ ঘটনা—এমন ৩১টি দেশের ওপর জরিপ করে এ তথ্য জানা গেছে।

সার্বিকভাবে নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ হিসেবে জনসংখ্যার বৃদ্ধিকে মনে করা হচ্ছে। তবে আফ্রিকার বাইরে অন্যান্য স্থানে অঙ্গচ্ছেদের প্রবণতা কমার ক্ষেত্রে উন্নতি লক্ষ করা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।  

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিয়েরা লিওনে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণী যাঁরা যৌনাঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়ে থাকেন, তাঁদের সংখ্যা গত ৩০ বছরে ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইথিওপিয়া, বুরকিনা ফাসো ও কেনিয়াতেও যৌনাঙ্গচ্ছেদের প্রবণতা বেশ খানিকটা কমার বিষয় লক্ষ করা গেছে।  

তবে সোমালিয়ায় ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের ৯৯ শতাংশ, গিনির ৯৫ শতাংশ, জিবুতির ৯০ শতাংশ ও মালির ৮৯ শতাংশ যৌনাঙ্গচ্ছেদের শিকার হন।

ইউনিসেফের প্রধান ক্যাথরিন রুসেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কম বয়সে আরও বেশিসংখ্যক নারীর অঙ্গচ্ছেদের শিকার হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক এক প্রবণতা। অনেক কন্যাশিশু পাঁচ বছরের আগেই এমন অঙ্গচ্ছেদের শিকার হচ্ছে।’  

ক্যাথরিন রুসেল বলেন, ‘ক্ষতিকর এ প্রবণতা অবসানে আমাদের প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে।’

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অ্যাজেন্ডা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষতিকর এ চর্চা দূর করতে অগ্রগতির বর্তমান স্তর ২৭ গুণ বৃদ্ধি করতে হবে।

‘তবে এ প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হলেও মনে রাখতে হবে, এফজিএম শত শত বছর ধরে চলে আসছে। তাই এর সঙ্গে যুক্ত সামাজিক রীতিনীতি ও চর্চায় পরিবর্তন আনতে সময় লাগবে’, বলেন ক্লডিয়া কপা।

এফজিএম নিষিদ্ধকরণে আইন প্রণয়নে চাপ দিয়ে আসছে ইউনিসেফ। অবশ্য এটি দূর করতে নারীশিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পুরুষের যে ভূমিকা তাতে, কিছু দেশে এ প্রবণতা চালিয়ে যাওয়াকে সমর্থন করেন তাঁরা। অন্যদিকে এসব দেশে কিশোরী ও নারীরা বহু বছরের পুরোনো এ চর্চা পরিত্যাগে আগ্রহী নন।

ক্লডিয়া বলেন, ‘পুরুষেরা এ বিষয়ে এখনো নীরব। এ নীরবতা এমন অভিব্যক্তির জন্ম দেয় যে এ চর্চার সক্রিয় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই এ প্রবণতার বিরুদ্ধে সবারই অবস্থান নিতে হবে।’