বইমেলায় বিক্রি ৬০ কোটি টাকা, দর্শনার্থী ৬০ লাখ

টিবিটি ডেস্ক
টিবিটি রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২৪ ০৮:৫৭ পিএম

৩১ দিনের অমর একুশে বইমেলা-২০২৪ শেষ হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা চলে শনিবার (২ মার্চ) পর্যন্ত। এবারের বইমেলায় প্রায় ৬০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এবং পুরো মেলায় প্রায় ৫০ লাখ লোকসমাগম হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজক বাংলা একাডেমি।

শনিবার (২ মার্চ) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার মূল মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব কেএম মুজাহিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে একাডেমির উপ-পরিচালক সাহেদ মমতাজ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এবারের বইমেলায় প্রায় ৬০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। আমাদের কাছে মোট হিসাব এখনও আসেনি। যেটা এসেছে, সেটি ৬০ কোটির কাছাকাছি। আজকের বিক্রিসহ আমাদের ধারণা এটি ৬০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বইমেলায় স্থাপিত আর্চ টাওয়ারের তথ্য মতে মেলায় প্রায় ৬০ লাখ লোকের সমাগম হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার পিতার স্বপ্নকে ধারণ করে শিল্প-সাহিত্যসহ সকল কিছুর পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসও জনগণের কাছে উন্মুক্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অনেকেই খাটো করতে চেয়েছেন। কিন্তু সেই ইতিহাসও তিনি সবার কাছে তুলে ধরেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বইমেলার মাধ্যমে আমরা আমাদের সৃজনশীলতাকে উদযাপন করি। পৃথিবীর আর কোথাও এমন বইমেলা খুঁজে পাবেন না। কারণ এই বইমেলা হচ্ছে আমাদের আবেগের বইমেলা, জাতি হয়ে ওঠার বইমেলা।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান বলেন, ‘একটি সফল বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান আনন্দময় হতে পারতো। কিন্তু গত পরশু রাতে বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সবাই মর্মাহত। মৃতদের জন্য আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। যারা অসুস্থ তাদের জন্য দোয়া করি, যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেন।’

পরেরবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা করার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুনেছি এখানে আগামীবার থেকে বইমেলা করা যাবে না। তবে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো বইমেলা এখানে করার। কেননা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মাঠে মেলা হওয়াটাই এর ঐতিহ্য। আমরা মনে করি একটি বইমেলা যথেষ্ট নয়। আমরা অন্তত দুটি বইমেলা করতে চাই। ফেব্রুয়ারি মাস ছাড়া বছরে অন্য কোনও সময়ে অপর মেলাটি আয়োজন করার চেষ্টা করবো। এ জন্য আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।’

এ সময় বাংলা একাডেমির সভাপতি কবি সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদাসহ আরও অনেকে।